ছবি: সংগৃহীত
দেশে দরিদ্র পরিবারের তুলনায় ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে জাতীয় জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি। দরিদ্রতম ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ৩০ দশমিক ২ শতাংশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেন ও মো. ইমাম হাসান ২০২৫ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের (মিকস) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা করেছেন। গবেষণাটি চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর অনলাইন গবেষণা প্রকাশনা মেডআর্কাইভে প্রকাশিত হয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি। সম্পদের শ্রেণি যত বেড়েছে, শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হারও তত বেড়েছে।
গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেনের ধারণা, ধনী পরিবারের শিশুদের প্যাকেটজাত খাবার, আসবাব, দেয়ালের রং ও বিভিন্ন তৈজসের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বেশি। এসব পণ্যে সিসা থাকতে পারে। তবে গবেষণায় নির্দিষ্ট কোনো উৎসকে দায়ী করা হয়নি।
বিভাগভেদেও রয়েছে বড় পার্থক্য। ঢাকায় শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হার ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ। সিলেটে ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ। রাজশাহীতে এ হার সবচেয়ে কম, ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শিশুদের রক্তে সিসার কোনো মাত্রাকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায় না। সিসার সংস্পর্শে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। এতে শিশুর শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝাও যায় না।
