অশ্লীল ভিডিও ছড়ানো নিয়ে বিতর্কে এমপি আব্দুল আজিজ, ষড়যন্ত্রের দাবি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২১:২৭
আব্দুল আজিজ, এমপি।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাটোর জেলা বিএনপি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক পুরুষকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, এটি সম্পাদিত কি না এবং এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয়ও জানা যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না হওয়ায় এর ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ দাবি করেন, নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি নিজ দল ও বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কথিত ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল আজিজ বলেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি এমনিতেই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে কথিত ভিডিও ছড়িয়ে তাঁকে আরও বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভিডিওটি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। আগামী শুক্রবার জেলা বিএনপির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদ সদস্য হওয়ায় বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডকেও জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, কয়েকজন ছাত্র ও যুবনেতা এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে ২৬ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন ২৭ অক্টোবর রাতে শাকিলের জানাজায় অংশ নিতে গেলে আব্দুল আজিজ নেতা-কর্মীদের হেনস্তার শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর পরদিনই তাঁর নামে ছড়িয়ে পড়ে কথিত অশ্লীল ভিডিওটি।
