ছবি: সিসিক
তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তুলে আনা এবং শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সিলেট জেলায় ইতোমধ্যে ৪০ হাজার এবং সিলেট মহানগর এলাকায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার উদ্বোধন একযোগে ৬৪ জেলায় অনুষ্ঠিত হবে। সিলেটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে জেলা স্টেডিয়ামে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরভবনের সভাকক্ষে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে সারাদেশে এ স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন করবেন। ৬৪ জেলা একযোগে এই ইভেন্টে যুক্ত হবে। এ উপলক্ষে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
আয়োজনে সিলেট সিটি করপোরেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এ কর্মসূচিটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করব।’
সরকারের ক্রীড়াবান্ধব নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারেই প্রধানমন্ত্রীর খেলাধুলাকে প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা ছিল এবং বর্তমানে সে অনুযায়ী কাজ চলছে। আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, গত বছরের ২ মে সিলেট থেকেই প্রধানমন্ত্রী এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করেছিলেন।’
এবারের প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের একটি অনন্য উদ্যোগ। এটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
নগরে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রতিটি সিটি করপোরেশনের প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কার্যক্রম ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন মহল্লার পরিত্যক্ত জায়গা চিহ্নিত করে সেগুলোকে খেলার মাঠে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আওতাধীন মাঠগুলোর সংস্কার কার্যক্রমও চালানো হবে।
সভায় জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিকাশের সুযোগ করে দেওয়াই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মূল উদ্দেশ্য।
১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় থাকছে ১০টি ইভেন্ট। এগুলো হলো- ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট, সাঁতার, ভলিবল ও টেবিল টেনিস।
প্রতিযোগিতাটি উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে দাবা ইভেন্টে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সীরা অংশ নিতে পারবে।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর সভা সঞ্চালনা করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব রেজাউল করিম নাচন, সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদ রানা, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দাশ ও নুসরাত লায়লা নীরা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. নূর হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবেদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রাজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, সিলেট মহানগর পুলিশের সিটিএসবির সিআইও-১ সৈয়দ আনিসুর রহমান, সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রোগ্রামার তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সুমিত রায়, সিলেট জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস তুলি, সিসিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ ও লাইসেন্স কর্মকর্তা রুবেল আহমদ নান্নুসহ সিসিক ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা এবং তাদের জাতীয় পর্যায়ে বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সিলেটে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিবন্ধন এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
