সালমান খান।
১৯৯৮ সালে রাজস্থানের কঙ্কানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগে বিতর্কে জড়ান বলিউড অভিনেতা সালমান খান। সেই ঘটনার পর থেকেই বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের মুখে রয়েছেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকেও একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন ‘ভাইজান’খ্যাত এই অভিনেতা।
২০২৪ সালে সালমানের মুম্বাইয়ের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলির ঘটনা, বিদেশে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ গায়ক-বন্ধুর বাড়িতে হামলা এবং সালমানের ঘনিষ্ঠ সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের পর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সম্প্রতি অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও টাইগার শ্রফকেও লক্ষ্যবস্তু করার খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনার পর সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দুবাই থেকে প্রায় দুই কোটি রুপি খরচ করে বুলেটপ্রুফ গাড়ি এনেছেন সালমান। গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দাতেও লাগিয়েছেন বুলেটপ্রুফ কাচ। শুটিং ছাড়া তাঁর চলাফেরাতেও এসেছে নানা বিধিনিষেধ।
এ অবস্থায় বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভ থেকে মুক্তির উপায় বাতলে দিয়েছেন গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাকা রমেশ বিষ্ণোই। তাঁর মতে, রাজস্থানের বিকানিরে অবস্থিত বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান মুক্তিধাম মুকামে গিয়ে ক্ষমা চাইলে বিরোধের অবসান হতে পারে।
রমেশ বিষ্ণোই জানিয়েছেন, তিনি কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করেন না। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংয়ের সদস্যদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। সালমান বা তাঁর ঘনিষ্ঠ কারও ওপর হামলা কিংবা হত্যাকাণ্ডকে তিনি সমর্থন করেন না বলেও জানিয়েছেন।
তাঁর ভাষ্য, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সালমানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে। এর সমাধান হওয়া প্রয়োজন। সালমান যদি তাঁদের মন্দিরে গিয়ে পূজা দিয়ে ক্ষমা চাইতেন, তাহলে বিষয়টি অনেক আগেই মিটে যেতে পারত।
রমেশ বিষ্ণোই বলেন, কৃষ্ণসার হরিণকে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত পবিত্র মনে করেন। তাঁদের বিশ্বাস, হরিণ হত্যা করে সালমান গুরুতর অন্যায় করেছেন, যা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারবিধির পরিপন্থী। এ কারণে ক্ষমা চাইতে হলে তাঁকে বিকানিরের মুক্তিধাম মুকামে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার মধ্যে অনুশোচনাবোধ থাকা জরুরি। সেই অনুশোচনা থেকেই প্রায়শ্চিত্তের পথ তৈরি হয়। সম্প্রদায়ের কারও সঙ্গে অন্যায় করলে মুক্তিধাম মুকামে গিয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। তবে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষমা চাওয়ার পর তা গ্রহণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন সম্প্রদায়ের সদস্যরাই।
এর আগে ‘অল ইন্ডিয়া বিষ্ণোই সমাজ’-এর সম্পাদক হনুমানরাম বিষ্ণোইও একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান রমেশ।
সালমানের বাবা সেলিম খানের আশঙ্কা, মন্দিরে পূজা দিতে গেলে তাঁর ছেলের ওপর হামলা হতে পারে। তবে রমেশ বিষ্ণোই এ বিষয়ে সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের অবসান হওয়া উচিত এবং একটি ক্ষমা প্রার্থনাই যথেষ্ট হতে পারে।
তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সালমানের জন্য আইনি জটিলতাও তৈরি করতে পারে। ২০১৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাজস্থান হাইকোর্টে আবেদন করেন অভিনেতা। মামলাটি বর্তমানে সেখানে বিচারাধীন।
অন্যদিকে, সেলিম খান ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ছোটবেলা থেকে যে ছেলে একটি আরশোলাও মারতে পারেনি, সে কীভাবে হরিণ মারবে? তাঁর মতে, তাই ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
