ছবি: সংগৃহীত
জীবনের পথচলায় কিছু সম্পর্কের শুরু হয় অনেক স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর ভালোবাসা নিয়ে। সময়ের স্রোতে কখনো সেই পথচলা দীর্ঘ হয়, কখনোবা অজানা কোনো বাঁকে এসে দুটি পথ আলাদা হয়ে যায়। তবে সব সম্পর্কের সমাপ্তি যে তিক্ততা, অভিযোগ কিংবা বিরোধের মধ্য দিয়ে হতে হবে, এমন নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েও কোনো সম্পর্কের ইতি টানা সম্ভব। তেমনই এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও তাঁর স্বামী রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদ।
পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়েছেন তাঁরা। ব্যক্তিগত জীবনে এখন থেকে আলাদা পথে হাঁটলেও একে অপরের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও শুভকামনা অটুট রাখার কথা জানিয়েছেন দুজন। তাঁদের এই সিদ্ধান্তে সম্পর্কের সমাপ্তির পাশাপাশি উঠে এসেছে পরস্পরের প্রতি মর্যাদা বজায় রাখার এক ইতিবাচক বার্তা।
নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রোকসানা মির্জা সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত। সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের একটি পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ আজাদ রিয়েল এস্টেট পেশার সঙ্গে যুক্ত। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পরিচিত এই দুজনের ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় এখন থেকে শুরু হচ্ছে আলাদা পথে।
তবে তাঁদের বিচ্ছেদের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঠিক কবে ঘটেছে, তা-ও জানা যায়নি। দুজনের বক্তব্যে কোনো অভিযোগ, পরস্পরের প্রতি দোষারোপ কিংবা বিরোধের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
সম্পর্কের সব গল্পের শেষটা এক রকম হয় না। কিছু গল্প শেষ হয় অভিমানে, কিছু শেষ হয় অপ্রকাশিত কথার ভারে। আবার কিছু সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে নীরব সম্মতি ও পারস্পরিক সম্মানকে সঙ্গী করে। রোকসানা মির্জা ও মোহাম্মদ আজাদের বিচ্ছেদের ঘোষণায় আপাতত তেমনই এক সংযত অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সব সম্পর্কের গন্তব্য এক হয় না, সব ভালোবাসার গল্পও একই ছাদের নিচে শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় না। কখনো কখনো আলাদা হয়ে যাওয়াই হয়ে ওঠে দুজন মানুষের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। রোকসানা মির্জা ও মোহাম্মদ আজাদও বেছে নিয়েছেন তেমন এক পথ। দাম্পত্য জীবনের অধ্যায় শেষ হলেও একে অপরের প্রতি শুভকামনা রেখে নতুনভাবে জীবন সাজানোর প্রত্যয় জানিয়েছেন তাঁরা।
