তাসকিন আহমেদ।
টেস্ট ক্রিকেটে এক দিনের চিত্র দিয়ে পরের দিনের পরিস্থিতি অনুমান করা কঠিন। সকালে যে দল চালকের আসনে থাকে, বিকেলেই তাদের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে। সিলেট টেস্টের প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিষিক্ত ব্যাটার কেভিন উইকহ্যাম অবশ্য বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছেন। তার লক্ষ্য ৩৫০ থেকে ৪০০ রান।
তবে উইকহ্যামের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে বিচলিত নন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে পরের দিন কী ঘটবে, তা আগে থেকে বলা যায় না।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে উইকহ্যাম বলেন, উইকেটের আচরণ বিবেচনায় তাদের লক্ষ্য বড় সংগ্রহ গড়া। একবার ব্যাটিং করেই প্রতিপক্ষকে দুইবার অলআউট করতে চান তারা। সময়ের সঙ্গে উইকেটের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তাই ৩৫০ থেকে ৪০০ বা তার বেশি রান করতে পারলে জয়ের ভালো সুযোগ তৈরি হবে।
উইকহ্যামের এই প্রত্যাশার জবাবে তাসকিন বলেন, অভিষেক ম্যাচে রান পেয়ে উইকহ্যাম স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত। তবে পরের দিন কী হবে, তা কেউ জানেন না।
তাসকিনের ভাষায়, ‘ও খুব উচ্ছ্বসিত। আজই তার অভিষেক হয়েছে, অভিষেকে রানও পেয়েছে। তাই অনেক কিছুই বলতে পারে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু কাল (শুক্রবার) খেলা শুরু হলে কী হবে, সেটা তো কেউ জানে না। এমনও হতে পারে, তারা ৪৫০ রান করে ফেলবে। আবার কাল এক ঘণ্টার মধ্যেই ৫০ রানে অলআউট হয়ে যেতে পারে। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের মজা। নতুন এসেছে, ওর কথায় বেশি বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’
অবশ্য সিলেট টেস্টের প্রথম দিনের শুরুটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ভাইরাস জ্বরে জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ছিটকে যাওয়ায় ওপেনিংয়েও পরিবর্তন আনতে হয় তাদের।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরুতেই আঘাত হানেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। তবে চতুর্থ উইকেটে কেভিন উইকহ্যাম ও জাঙ্গুর ১৩১ রানের জুটি ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়। অভিষেকেই ১৪৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন উইকহ্যাম।
অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে দিন শেষ করেন জাঙ্গু। ১৭১ বলে ১১১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন তিনি। জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন ৭৭ রানের জুটিতে প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৩৫ রান।
প্রথম সেশনে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ভালো অবস্থানে থাকলেও পরে আর প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে পারেনি বাংলাদেশ। জাঙ্গুর একটি ক্যাচও হাতছাড়া করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। তিন স্পিনার খেলিয়েও কোনো উইকেট পায়নি স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চারটি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন ও হাসান মাহমুদ।
