
ছবি: সংগৃহীত।
ভারতের ডাবল-এন্ট্রি ভিসা না পাওয়ায় দিল্লিতে নির্ধারিত ইন্টারভিউতে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না সিলেটের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদনকারীসহ বাংলাদেশের হাজারো নাগরিকের। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা ও চাকরির জন্য ভিসা পেতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওয়ার্ক ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীরা।
এ পরিস্থিতিতে, সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভিসা আবেদনকারীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ভারতের ভিসা জটিলতা সমাধানে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে ভিসা নেওয়ার বা ঢাকায় ভিসা সেন্টার স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী আকসিদুর গোলদার জানিয়েছেন, তিনি রোমানিয়ার একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে ১৯ জুন দিল্লিতে দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেট পেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের ভিসা না থাকায় ইন্টারভিউ দিতে পারেননি। ফলে তার ওয়ার্ক অর্ডারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং এখন নতুন মেয়াদেও তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে।
রোমানিয়া, পর্তুগালসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে বাংলাদেশিদের হাজার হাজার ওয়ার্ক অর্ডার এসেছে। দূতাবাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইন্টারভিউ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে, কিন্তু ভারতীয় ভিসার জটিলতার কারণে অনেকেই সময়মতো উপস্থিত হতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরাও ভিসা জটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন ধরতে পারছেন না।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনশক্তি রপ্তানিকারক বলেন, ’প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করা ওয়ার্ক অর্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে।’
তিনি অভিযোগ করেন, এতে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অন্যদিকে নেপাল ও ভারতের শিক্ষার্থী ও কর্মীরা সহজে ভিসা পাচ্ছেন।
ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ডাবল-এন্ট্রি ভিসা সীমিত ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে। ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার কারণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতীয় ভিসায় কঠোরতা আরোপিত হয়েছে। বাংলাদেশিরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওয়ার্ক ও স্টুডেন্ট ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকায় ভিসা সেন্টার স্থানান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ ডেস্কের মহাপরিচালক মোশারফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ’ভারতের ভিসা না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী ইউরোপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছেন না। আমরা ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করছি।’
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দিল্লি ও ঢাকায় ইউরোপের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থানান্তরের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি।