https://www.emjanews.com/

12015

surplus

প্রকাশিত

০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩৬

অন্যান্য

নতুন ফসল উৎসর্গ: গারোদের সম্প্রীতির উৎসব 'ওয়ানগালা'

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩৬

ছবি: সংগৃহিত

জুমচাষের নতুন ফল ও ফসল ঘরে উঠবে। এ ফসল খাওয়ার আগে শস্য দেবতার প্রতি জানাতে হবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের মানুষের এটাই ঐতিহ্য। দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর এ উৎসবের নাম ওয়ানগালা।

শস্যদেবতা মিসি আর সালজংয়ের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উৎপাদিত ফসল উৎসর্গের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এ ওয়ানগালা উৎসব উদযাপন করছেন মৌলভীবাজার জেলায় বসবাসরত গারো সম্প্রদায়ের মানুষেরা। 

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে রোববার (৭ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ওয়ানগালা উদযাপিত হয়েছে।  

'নবান্ন' নামেও পরিচিত, নতুন ফসলের আগমন উপলক্ষে পালিত এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী নাচ, গান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে গারোরা দেবতাকে নতুন ফসল উৎসর্গ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উৎসবে যোগ দিতে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গারো সম্প্রদায়ের মানুষেরা আজ ঐতিহ্যবাহী নানা রঙের পোশাক পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া গারো লাইন মাঠে হাজির হন। তাদের সঙ্গে অন্যান্যরাও উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে কৃষিজমি থেকে সংগ্রহ করা নতুন ফসল একটি বৃত্তে সাজানো ঝুড়িতে রাখা হয়।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল প্রার্থনা, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নাচ ও গানের মাধ্যমে ফসল কাটার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরা হয়।

ওয়ানগালা উপলক্ষে শ্রীচুক গারো নকমা এসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে গারো খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনায় অংশ নেন। এরপর নতুন ফসল উৎসর্গ ও গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানের পরিবেশনা হয়।

ওয়ানগালা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অনুপ চিসিম এবং সঞ্চালনা করেন গারো নকমা এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক স্যামুয়েল যোসেফ হাজং।

স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার জেমস শ্যামল গমেজ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মনিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক প্রভাস সিংহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় রশিদ ও ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ক্লোডিয়া নকরেক কেয়া।

গারো নকমা এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক স্যামুয়েল যোসেফ হাজং বলেন, ‘ওয়ানগালা আমাদের ঐতিহ্যবাহী সবচেয়ে প্রাচীন নবান্ন উৎসব। নতুন ফসল দেবতার নামে উৎসর্গ না করে আমরা গ্রহণ করি না। একইসঙ্গে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এ আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’