ছবি: সংগৃহীত
২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন এবং ২০১৬ সাল থেকে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে আসলেও এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের দায়িত্ব পেল এনটিআরসিএ। গত ২৭ জানুয়ারি জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বশেষ জারি করা জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অন্তত ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা সহকারী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না- এমন শর্ত যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৫ বছর ও ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। কম অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের এসব শীর্ষ পদে প্রবেশ ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।’
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উচ্চ কলেজের অধ্যক্ষ, ডিগ্রি মাধ্যমিক কলেজের উপাধ্যক্ষ অথবা স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে কিংবা এমপিওভুক্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রিসহ বিএড ডিগ্রি থাকতে হবে। আবেদনকারীকে এমপিওভুক্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য ইনডেক্সধারী সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অন্যদিকে, সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৭ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদে নিয়োগ নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
