সরকারি হস্তক্ষেপে ওষুধের দাম সীমিত, অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি নি’ষিদ্ধ
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:১১
ছবি: সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর মূল্য সরকার সরাসরি নির্ধারণ করবে।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে। ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতির পর দীর্ঘ সময় এই তালিকা অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে বাজারে থাকা ১,৩০০-এর বেশি ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল।’
তিনি আরও জানান, ‘আগের ১১৭টি ওষুধের তালিকার সঙ্গে ১৩৬টি নতুন ওষুধ যুক্ত হয়েছে, যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি।’
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই ওষুধ কেনার খরচে হয়। উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য বিমা বা সরকারি সুবিধা থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। তাই ওষুধের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া বিকল্প ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত সব ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করবে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে কেউ ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। যারা ইতিমধ্যেই বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছেন, তাদের ধাপে ধাপে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে নামতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই উদ্যোগের ফলে জনস্বাস্থ্য সেবায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
