ছবি: সংগৃহীত
বলিউড তারকা শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন এবং আলিয়া ভাট-এর মতো জনপ্রিয় তারকাদের দেহরক্ষীদের বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও গুজব প্রচলিত রয়েছে।
অনেক পোস্ট ও পোর্টালে দাবি করা হয়, এসব দেহরক্ষী বছরে ২ থেকে ২.৫ কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করেন। তবে সম্প্রতি সাবেক দেহরক্ষী ইয়াসিন খান এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইউসুফ ইব্রাহিম এসব দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন।
‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াসিন খান বলেন, ইন্টারনেটে ছড়ানো তথ্য অনুযায়ী দেহরক্ষীদের আয় সম্পর্কে যে ধারণা দেওয়া হয়, তা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, সাধারণভাবে দেহরক্ষীদের একটি নির্দিষ্ট মাসিক বেতন থাকে এবং তা কোনো ‘ম্যাসিভ বার্ষিক প্যাকেজ’ নয়।
তিনি আরও জানান, শুটিং চলাকালে প্রযোজকদের সঙ্গে আলাদা চুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় হতে পারে, তবে তা নির্ভর করে প্রকল্প ও ব্যক্তিগত চুক্তির ওপর।
ইয়াসিন অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে শুটিং সেটে চালক বা মেকআপ আর্টিস্টদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হলেও দেহরক্ষীদের ক্ষেত্রে তেমন সুবিধা ছিল না। পরে তিনি দেহরক্ষীদের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেন।
অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইউসুফ ইব্রাহিম জানান, পেশাদার দেহরক্ষীদের মাসিক আয় সাধারণত ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ রুপির মধ্যে হয়ে থাকে। তার মতে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা চুক্তির কারণে সামান্য বেশি বেতন হতে পারে, তবে কোটি টাকার দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি আরও বলেন, অভিনেতা রবি সিং বছরে ২.৭ কোটি রুপি আয় করেন—এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তারকাদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলেও দেহরক্ষীদের আয়ের বিষয়ে প্রচলিত ধারণার বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত ও গুজবনির্ভর।
