https://www.emjanews.com/

12958

national

প্রকাশিত

১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:৫৬

আপডেট

১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:৫৮

জাতীয়

কা/রা/গা/রে/র বাইরে থাকলেও কমবে সা*জা : দেশে নতুন আইন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:৫৬

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের কারাব্যবস্থা থেকে সরে এসে আধুনিক ও মানবিক সংশোধন ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। প্রায় ১৩০ বছরের পুরনো ‘দ্য প্রিজন্স অ্যাক্ট–১৮৯৪’ এবং ১২৫ বছরের পুরনো ‘দ্য প্রিজনার্স অ্যাক্ট–১৯০০’ বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই আইনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশনাল সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০২৫’। আইনটি কার্যকর হলে দেশের কারাগার ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন আইনে প্যারোল ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতদিন বাংলাদেশে প্যারোল বলতে মূলত নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে সীমিত সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তিকে বোঝানো হতো। তবে প্রস্তাবিত আইনে প্যারোলকে বন্দির পুনর্বাসন ও সামাজিকীকরণের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। খসড়া আইনের বিধান অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো বন্দি যদি অন্তত ১৫ বছর সাজা ভোগ করেন এবং কারাগারে আচরণ সন্তোষজনক হয়, তাহলে তিনি প্যারোলের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অন্যান্য মেয়াদি সাজার ক্ষেত্রে সাজার অন্তত অর্ধেক ভোগ করার পর প্যারোল বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্যারোলে বাইরে অবস্থানকালও বন্দির সাজার অংশ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ শর্তসাপেক্ষে কারাগারের বাইরে থাকলেও সেই সময়টুকু মূল সাজা থেকে কমতে থাকবে। ফলে ভালো আচরণ ও সংশোধনের প্রতি বন্দিদের আগ্রহ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

খসড়া আইনে প্রতিটি কারাগারে প্যারোল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বোর্ড গঠনের কথাও বলা হয়েছে। অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের সভাপতিত্বে গঠিত এই বোর্ড বন্দির আচরণ, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্যারোলের বিষয়ে সুপারিশ করবে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনের খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হলে দেশ-বিদেশ থেকে বেশ কিছু মতামত পাওয়া গেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত খসড়া দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা প্যারোল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স ও কারা বিশেষজ্ঞ মেজর (অব.) শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন পর নতুন কারা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও প্যারোল বোর্ড যেন কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদার ও নীতিনির্ভরভাবে কাজ করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে কারাগারগুলো কেবল শাস্তি প্রদানের জায়গা নয়, বরং বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের কার্যকর কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সূত্র- কালের কন্ঠ