ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সরকারের ধারাবাহিক অভিযানের মুখে সংকটে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসন সেখানে থাকা প্রায় দেড় হাজার সেনা দ্রুত প্রত্যাহার করার প্রস্তুতি শুরু করতে চাচ্ছে।
গণমাধ্যমটির বরাতে তুরস্কের ইয়েনি সাফাক জানিয়েছে, সিরিয়া সরকার দেশটির উত্তরাঞ্চল থেকে এসডিএফের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। এসডিএফ যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে মার্কিন সেনাদের সেখানে থাকার প্রয়োজন অপরিহার্য হবে না।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, ‘গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ পেন্টাগনকে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির যৌক্তিকতা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।’
এতদিন ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় এসডিএফের সঙ্গে অংশীদারিত্বই ছিল মার্কিন মিশনের মূল ভিত্তি। তবে সিরিয়ান আরব আর্মির ধারাবাহিক অভিযানের কারণে এসডিএফের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ায় সেই অংশীদারিত্ব কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন সেখানে সেনা রাখার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
বর্তমানে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১,৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মিশনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় তিনি জানিয়েছেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের দেওয়ার মতো কিছু নেই। আমরা কাল্পনিক পরিস্থিতি বা ভবিষ্যৎ অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করি না।’
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বাস্তবায়িত হলে এটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।
