শিরোনাম
মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য বৈদ্যুতিক বাস সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃ ত্যু নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ডের জন্য অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক নির্বাচনে মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমে নজরদারি থাকবে সিলেট-৪: জনগণই আমার কাজের অনুপ্রেরণা-শক্তি: আরিফুল হক চৌধুরী। সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু বরণ উৎসব ব্রিটেনে সেরা বাংলাদেশি সাংবাদিক আ. স. ম মাসুম সিলেট-৩: বিজয়ী হলে তিন উপজেলায় হেলথ সেন্টার, একটি স্টেডিয়াম এবং নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত শেখ সুজাত মিয়ার আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস সিলেট-১: তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে: মুক্তাদির

https://www.emjanews.com/

13171

international

প্রকাশিত

১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:০৫

আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে মানবপাচারের ‘ঘাঁটি’, মূল হোতা বাংলাদেশি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:০৫

ছবি: আহমাদুল কবির।

মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের একটি সাধারণ বাড়িকে অস্থায়ী আশ্রয় ও ট্রানজিট কেন্দ্র বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসা ‘ইকবাল সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত একটি চক্রকে ভেঙে দিয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ রিঙ্গিতের অবৈধ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।

১৮ জানুয়ারি মাই মেট্রো- এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই পাচারচক্রটি সীমান্তবর্তী অননুমোদিত স্থলপথ ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করিয়ে প্রথমে গোপন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখত। বাকি পাচার ফি আদায় শেষে তাদের পরবর্তী গন্তব্যে পাঠানো হতো।

ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন সদরদপ্তরের মানবপাচার ও মানবপাচারবিরোধী এবং অর্থপাচার তদন্ত শাখা কেলান্তান ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখার সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, “অভিযানে তল্লাশি চালানো বাড়িটি ‘রুমাহ পেনামপুং’ বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এটি সহজে নজরে পড়ত না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই সচেতনভাবে এমন এলাকা বেছে নেয় সিন্ডিকেটটি।”

অভিযানে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়- যাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া বাড়িটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ২৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা (মিয়ানমার) নাগরিককেও আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা গত তিন দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া- থাইল্যান্ড সীমান্তের ‘ইঁদুরপথ’ নামে পরিচিত অননুমোদিত স্থলপথ ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করেন। সম্পূর্ণ পাচার ফি পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের ওই বাড়িতে আটকে রাখা হতো।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ‘ইকবাল সিন্ডিকেট’ ২০২৪ সালের শুরু থেকেই সক্রিয়। সিন্ডিকেটের মূল হোতা বাংলাদেশি নাগরিক ইকবাল, যিনি থাইল্যান্ড থেকে পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত আদায় করা হতো।

এদিকে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় বাড়ির মালিককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইন ২০০৭ (আইন ৬৭০) অনুযায়ী তদন্তের আওতায় আনা হবে।

জাকারিয়া শাবান আরও জানান, অভিযানের সময় ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইন্ডিকেটরস ২.০ অনুসরণ করে মানবপাচারের শিকার কেউ আছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসী পাচার ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অবস্থান কঠোর থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।