মার্কিন মানচিত্রে পুরো কাশ্মীরকে ভারতের অংশ দেখানোয় নতুন বিতর্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:২৪
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি কার্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত মানচিত্র ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য সমঝোতার ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রকাশিত ওই মানচিত্রে পুরো কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয়ের এক পোস্টে ভারতের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়, তাতে শুধু ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীর নয়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর এবং চীনের দখলে থাকা অঞ্চল আকসাই চীনকেও ভারতের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও চীনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, নতুন এই মানচিত্রের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকেই সমর্থন করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত মানচিত্রগুলোতে পাকিস্তান ও চীন নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর আলাদাভাবে দেখানো হতো। এবারই প্রথম পুরো অঞ্চলকে ভারতের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।
মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয় একাধিক মার্কিন পণ্যের ভারতে প্রবেশে শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দিতে গিয়ে ওই মানচিত্রসহ পোস্টটি প্রকাশ করে। পোস্টে বলা হয়, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য ভারতের নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকলেও এই মানচিত্র ইসলামাবাদের জন্য বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর রয়েছে। ভারতীয় ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানে শতাধিক কোটি ডলারের বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরল খনিজ সম্পদ এবং সামরিক সরঞ্জাম খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে।
শনিবার ভোরে ভারতীয় সময় অনুযায়ী ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতার ঘোষণা দেয়। এ সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল জানান, নতুন এই সমঝোতা কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমে গড়ে ১৮ শতাংশে দাঁড়াবে। এতে ভারতের বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক, গৃহসজ্জা ও রাসায়নিক শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার উন্মুক্ত হবে। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সমঝোতা অনুযায়ী মার্কিন কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ভারতও আমদানি শুল্ক কমাচ্ছে এবং কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
