১৪১ সামরিক কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, চারজনকে পুনর্বহাল
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:৫১
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সশস্ত্র বাহিনী থেকে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষভাবে (পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর) পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে চারজনকে সামরিক বাহিনীতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে প্রতিরক্ষাসচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর হবে। চার কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করা হলেও বাকি কর্মকর্তাদের নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ অবসর প্রদান করা হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে- সেনাবাহিনীর ১১০ জন, নৌবাহিনীর ১৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ১২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবসরকালীন ভাতা, প্লটসহ সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক সুবিধা পাবেন।
এছাড়া পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন বিএমএ ৭৫তম লং কোর্সের- লেফটেন্যান্ট শাফায়েত আহমেদ, লেফটেন্যান্ট এ এইচ এম ইকরামউজ্জামান, লেফটেন্যান্ট তৌকির মাহমুদ তুষার এবং লেফটেন্যান্ট আবদুল্লাহ ওমর নাসিফ।
তাদের জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধাসহ অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরখাস্ত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চাকরি ও মর্যাদা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত বা বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করে।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদন করা আরও ২০১ জন কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় নথিপত্র না পাওয়ায় তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- সেনাবাহিনীর ২ জন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, ৭ জন মেজর জেনারেল, ২০ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, নৌবাহিনীর ২ জন কমোডর, বিমানবাহিনীর ১ জন এয়ার ভাইস মার্শাল ও ৪ জন এয়ার কমোডর।
উল্লেখযোগ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন- লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালি, মেজর জেনারেল মুহাম্মাদ ইশতিয়াক, মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি, মেজর জেনারেল কামরুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, কমোডর এম নাসির, কমোডর সৈয়দ মকছুমুল হাকিম, এয়ার ভাইস মার্শাল দেলোয়ার হোসেন, এয়ার কমোডর সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন, এয়ার কমোডর কাজী মাজহারুল করিম, এয়ার কমোডর খালিদ হোসেন ও এয়ার কমোডর শাহারুল হুদা।
