ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্মস্থলের কারণে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের জন্য পোস্টাল ভোট বা বিকল্প কোনো ভোটিং ব্যবস্থার সুযোগ রাখেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকা অসংখ্য সাংবাদিক এবারও ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে বাড়তি আগ্রহ ও মানসিক প্রস্তুতি ছিল অনেক গণমাধ্যমকর্মীর। একতরফা নির্বাচন, রাতের ভোট ও ডামি ভোটারের মতো অপচর্চার কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ভোটবিমুখতা তৈরি হয়েছিল। তবে এবারকার নির্বাচনে সেই মানসিকতা কাটিয়ে ভোট দিতে প্রস্তুত ছিলেন তারা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তাদের সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে।
সিলেটের বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের বড় একটি অংশ অন্য জেলা ও বিভাগের ভোটার। নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন অফিস খোলা থাকা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতার কারণে তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পোস্টাল ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন- সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার এবং নির্বাচনি কাজে যুক্ত কিছু সরকারি সংস্থার সদস্য।
তবে পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ, প্রচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করেন। অথচ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে তারা দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত হয়ে আসছেন।
একাধিক সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সারাদিন ভোটকেন্দ্র ঘুরে খবর করি, কিন্তু নিজের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাই না। এটা খুবই হতাশাজনক।’
গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, ভবিষ্যৎ জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিকদের পোস্টাল ভোট কিংবা আগাম ভোট ব্যবস্থার আওতায় আনা জরুরি। এতে একদিকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা হবে, অন্যদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণও বাড়বে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা স্বীকৃতি দিতে হলে সাংবাদিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে একটি বড় পেশাজীবী শ্রেণি নিয়মিতভাবে ভোটের বাইরে থেকে যাবে।
