সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুবারের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট ৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করে ধাপে ধাপে নগর নেতৃত্ব এবং সেখান থেকে জাতীয় সংসদে পৌঁছানো, এই যাত্রাপথই তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে ‘দ্যা ম্যাজিকম্যান’ নামে পরিচিত করেছে বলে সমর্থকদের ভাষ্য।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ১০টার দিকে এ আসনের ১৭২টি কেন্দ্রের সবগুলোর ভোট গণনা শেষ হয়। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জয়নাল আবেদীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১।
আসনের তিনটি উপজেলার ফলাফলে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জে ধানের শীষ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৬৬৬ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২০ হাজার ৮৯ ভোট পড়েছে। গোয়াইনঘাটে ধানের শীষ পেয়েছে ৯৭ হাজার ৪৮৪ এবং দাঁড়িপাল্লা ২৭ হাজার ৮৯৯ ভোট। জৈন্তাপুরে ধানের শীষ ৪৪ হাজার ১৯৬ এবং দাঁড়িপাল্লা ২১ হাজার ৯৮৭ ভোট পায়। সিলেট ৪ আসনটি জাতীয় সংসদের ২৩২ নম্বর আসন। এখানে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন।
আরিফুল হক চৌধুরীর জন্ম ২৩ নভেম্বর ১৯৫৯ সালে সিলেটের কুমারপাড়ায়। তার পিতা মো. শফিকুল হক চৌধুরী এবং মাতা আমিনা খাতুন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন, সিলেট নগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। একই সময়ে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে দুই মেয়াদে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।
খনিজসম্পদ ও পর্যটনে সমৃদ্ধ সিলেট ৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে পাথর কোয়ারি চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতকে উন্নত দেশের আদলে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে নগরপিতা, সেখান থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় আরিফুল হক চৌধুরীর এই উত্থান সিলেটের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
