https://www.emjanews.com/

13924

sylhet

প্রকাশিত

২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫:৪১

সিলেট

সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবো: মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫:৪১

সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে এসে দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, টানা কয়েক মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক থাকায় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে এবং একটি মাত্র পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা সময়ের দাবি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই দিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছে তিনি এসব কথা বলেন।

সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম সিলেট সফর।

দেশের রপ্তানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থা কাটাতে রপ্তানি পণ্যের পরিধি বাড়ানো, নতুন পণ্য যুক্ত করা এবং বহুমুখীকরণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ডাইভারসিফিকেশন বা বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই এবং ভবিষ্যতে সরকার এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ করবে। সিলেটের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়।

বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, এ লক্ষ্যেই সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সফরকালে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

রমজানে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ রয়েছে এবং তা মূল্য স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট।

সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী বছরের জন্য যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি সেন্টার ও এআই সেন্টার স্থাপনসহ সরাসরি সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি পিছিয়ে না থাকি তাহলে ২০২৬ সালে পৃথিবী আমাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে না। বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ আনতে হলে উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন, যাতে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীরা সিলেটে বিনিয়োগে আগ্রহী হন।