নবনিযুক্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জন্মস্থান সিলেট সফরে আসছেন আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চার দিনের সফরে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন। মন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তার প্রথম নিজ জেলা সফর, যেখানে রাজনৈতিক গুরু ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া এই মন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানযোগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে যাবেন। এ দিন তার আর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত ও জুমার নামাজ আদায় করবেন। বিকেলে দক্ষিণ সুরমা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে শনিবার মৌলভীবাজারে গিয়ে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে সাইফুর রহমানের কাছ থেকেই আরিফুল হক চৌধুরী রাজনীতি ও উন্নয়ন ভাবনার শিক্ষা পেয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম সফরেই রাজনৈতিক গুরুর কবর জিয়ারতের সিদ্ধান্তকে অনেকেই কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান এর আস্থাভাজন হিসেবে মূলত আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং একই সময়ে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সাইফুর রহমানের সিলেটকেন্দ্রিক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ও তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন আরিফুল হক চৌধুরী। রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবের কারণে অনেকেই তাকে তখন অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ হিসেবেও উল্লেখ করতেন।
অপরদিকে, শনিবার তিনি বরুণা মাদ্রাসা পরিদর্শন করবেন এবং বরুণার পীর সাহেব রশীদুর রহমান ফারুক এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এই আধ্যাত্মিক নেতার প্রতি আরিফুল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা রয়েছে বলে জানা যায়। আরিফুল হক চৌধুরী একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। বরুণার পীর সাহেব সিলেটের অন্যতম শীর্ষ বুজুর্গ হওয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময় তার দোয়া ও পরামর্শ নিয়ে থাকেন। মেয়র থাকাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও বরুণা মাদ্রাসার বিভিন্ন মাহফিল বা আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইজতেমায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকেছেন। তাছাড়া সিলেটে বরুণার পীর সাহেবের ভক্ত ও অনুসারীর সংখ্যা বিশাল। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরী সর্বদা সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। যা ভোটের মাঠের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
এসব কর্মসূচীর পাশাপাশি, শনিবার দুপুরে তিনি পারিবারিক কবরস্থানেও দাদা-দাদীর কবর জিয়ারত করবেন। পরে কমলগঞ্জ হয়ে সিলেটে নিজ বাসভবনে ফিরবেন। পরদিন রোববার নতুন এই মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় দিনব্যাপী সফর করবেন। সেখানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুধিজনের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। একই দিন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। সফর শেষে দুপুরে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে শুরু করে দুইবারের মেয়র এবং এখন মন্ত্রী হিসেবে তার এই ধারাবাহিক উত্থান সিলেটের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
