https://www.emjanews.com/

13931

sylhet

প্রকাশিত

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩:০১

আপডেট

২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০০:৫৫

সিলেট

দুয়ারে কড়া নাড়ছে সিলেট সিটি নির্বাচন: কে হচ্ছেন মেয়র?

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩:০১

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বদলে গেছে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। অপসারিত হয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা, সিটি কর্পোরেশনগুলোতে চলছে প্রশাসকের শাসন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা ও নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে এবার দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে সরকার। ঈদের পরপরই সিলেটসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটে বিএনপির অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন নগরবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন- কে হচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) পরবর্তী নগরপিতা?

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের ২১ জুন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালের জুনে হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অপসারণ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা প্রাপ্তিতে তৈরি হয়েছে মারাত্মক দীর্ঘসূত্রিতা। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য জরুরি কাগজপত্রের জন্য সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এমন জনভোগান্তি দূর করতে যত দ্রুত সম্ভব সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে নির্বাচন ঝুলে থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পেয়ে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ইসি প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এই তিন সিটির পর পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ বাকি ৯টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদও জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা পাওয়ামাত্রই ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করবে তারা।

একনজরে সিসিক: আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের ৪২টি ওয়ার্ডে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন ২৬.৫০ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সিসিক এলাকার মোট জনসংখ্যা ১০ লক্ষাধিক।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। সিসিক এলাকাটি দুটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনের আওতাভুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডে (১-২৭ এবং ৩১-৩৯নং ওয়ার্ড) মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন। অন্যদিকে, সিলেট-৩ আসনের আওতাভুক্ত ৬টি ওয়ার্ডে (২৮-৩০ এবং ৪০-৪২নং ওয়ার্ড) মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।

সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা-কল্পনা: সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ ও সিলেট-৩ উভয় আসনেই ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে বিএনপির এই শক্ত অবস্থান সিটি নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংসদ নির্বাচনে যারা মাঠে বেশ সক্রিয় ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই বেশ কয়েকজনের নাম মেয়র পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে লোকমুখে উচ্চারিত হচ্ছে।

অপরদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আগেই প্রার্থী ঠিক করেছে দলটি। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হবে শিগগির।

প্রশাসকের শাসনে ক্লান্ত নগরবাসী এখন তাকিয়ে আছেন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ফিরে পাবে তার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।