দেশে স্নাতকোত্তর পড়া শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন চীনে। সেখানে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি শুরু করেন। বেশিদিন মন ঠেকেনি এতে। ফলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। আর ওই ব্যবসার সুবাদে পরিচয় হয় চীনের সাংহাই প্রদেশের ক্রিস হোয়ের সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেম, প্রেম থেকে বিয়ে। এখন দেশে নিজ ধর্মের রীতিতে বাঁধবেন সাতপাকে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চীনা প্রেমিকাকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে এসেছেন রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের যুবক তরুণ ব্যবসায়ী সুকান্ত কুমার সেন। তিনি গ্রামের প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানী সেনের ছেলে। এ ঘটনার পর সুকান্তের বাড়িতে বিদেশি নববধূকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
সুকান্ত সেন ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুকান্ত বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষে প্রায় আট বছর আগে চীনে যান। এরপর সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। কিছুদিন চাকরি শেষে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন।
সুকান্তের ছোট বোন ঐশী সেন বর্তমানে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল তার বৌদির। পরিবারের সদস্যরাও ক্রিস হুইয়ের আন্তরিকতা ও সৌজন্যে সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
সুকান্ত সেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি ও ক্রিস হোয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে বিয়ে করেছেন। ব্যবসার সূত্রে পরিচয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর পরিবারের কাছে প্রস্তাব করা হয়। দুই পরিবারই তাদের সম্পর্কে সম্মতি দেয়। ক্রিস হোয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। এরপর ক্রিস হোয়ের আগ্রহ ও সম্মতিতে হিন্দুধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার ক্রিস হোয়ের বাবা ও চাচা এসেছেন।
চায়নিজ নববধূ গ্রামে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে টিকরপাড়া গ্রামে সুকান্তের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। অনেকেই বিদেশি নববধূকে দেখতে বাড়িতে আসেন এবং তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় এমন ঘটনা বিরল হওয়ায় কৌতূহল ও আনন্দে মানুষজন ভিড় করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চীনে বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সেন বাড়িতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ভিনদেশি নববধূকে ঘিরে পরিবার ও এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
