https://www.emjanews.com/

14140

sylhet

প্রকাশিত

০৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৮

সিলেট

সাংবাদিক লিটন ও চালক জুনায়েদকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মা ম লা য় ফাঁসানোর অভিযোগ, মুক্তির দাবি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৮

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তৈমুন নগর গ্রামের বাসিন্দা ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা লিটন মিয়া এবং চালক জুনায়েদ আহমদকে একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিটন মিয়ার বড় ভাই মো. কবির হোসেন এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কবির হোসেন বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরের এয়ারপোর্ট রোডস্থ এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড এলাকায় পুলিশের তল্লাশিতে একটি প্রাইভেটকারসহ লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদকে আটক করা হয়। লিটন পেশায় একজন সংবাদকর্মী এবং গণ অধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। এছাড়া তিনি তাদের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন।

কবির হোসেন জানান, ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে। কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই কামরুল ভোলাগঞ্জ বাজার থেকে তার নিজস্ব প্রাইভেটকারে গ্যাস নেওয়ার উদ্দেশ্যে সিলেট নগরের দিকে আসছিলেন। পথে পরিচিত হওয়ার সুবাদে এবং জরুরি কাজ থাকায় লিটন মিয়া এসআই কামরুলের গাড়িতে তুলে নেন। পথিমধ্যে পাড়ুয়া এলাকায় পাথর উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে এসআই কামরুল গাড়ি থেকে নেমে যান এবং চালক জুনায়েদকে গাড়িটি নিয়ে সিলেটে চলে যেতে বলেন। এসময় লিটন মিয়া গাড়ির সামনের সিটে বসা ছিলেন।

রাত ১২টার পর সিলেট এয়ারপোর্ট রোডের চেকপোস্টে গাড়িটি তল্লাশি করলে পেছনের সিটে একটি ওয়াকিটকি পাওয়া যায়। লিটন ও চালক পুলিশকে জানান যে, গাড়ি ও ওয়াকিটকি উভয়ই এসআই কামরুলের। পরে তল্লাশিতে গাড়ির ডিকিতে একটি চাকু পাওয়া যায়। ঘটনা জানার পরপরই তারা এসআই কামরুলকে ফোন করেন। তিনি মোবাইলে চেকপোস্টের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সংবাদ সম্মেলনে কবির হোসেন বলেন, ‘এসআই কামরুল ঘটনাস্থলে এসে থানার ওসির জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে গাড়ি ও ওয়াকিটকির মালিক তিনি। এরপর তিনজনকেই থানায় নেওয়া হয়। সেখানেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মালামালের মালিকানা এসআই কামরুলের বলে নিশ্চিত হন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে আমার ভাই লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আসামি করা হয় এবং তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এসআই কামরুলের স্বীকারোক্তি থাকার পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমার ভাইয়ের পেশাগত অবস্থান, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ষড়যন্ত্র করেছে। ওয়াকিটকি ও গাড়ির মালিকানা যে এসআই কামরুলের, তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। একজন সংবাদকর্মী হয়েও আমার ভাই আজ মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে সাত দিন ধরে কারাভোগ করছেন। তার সঙ্গে চালক জুনায়েদও অন্যায়ের শিকার। আমরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। সঠিক তদন্ত হলে তাদের নির্দোষিতা প্রমাণিত হবে। এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। আমরা অবিলম্বে লিটন মিয়া ও জুনায়েদের মুক্তি দাবি করছি এবং প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছেন।