ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশি কূটনৈতিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৪৮) মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা এলাকার মৃত সবর আলীর ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করছিলেন এবং পানিবাহী গাড়ি চালাতেন। রোববার সন্ধ্যার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। একই ঘটনায় পাকিস্তান ও নেপালের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এতে অন্তত ৫৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ছোড়া ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করে ৫০৬টি প্রতিহত করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের কিছু ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়ে বেসামরিক সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে বাহরাইনে পৃথক ঘটনায় নিহত হয়েছেন আবুল মহসিন তারেক (৪৮)। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের গো মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, রাজধানী মানামার কাছে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন।
এ ছাড়া কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান। আহতরা হলেন আমিনুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান ও দুলাল মিয়া। হামলার সময় বিমানবন্দর এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়লে তারা আহত হন বলে জানানো হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সামরিক স্থাপনার আশপাশ এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং কেবল সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষও নাগরিক ও প্রবাসীদের গুজব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
