ছবি: সোহাগ, ইউকে।
লন্ডনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যেগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন ও আলোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ। ‘৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে।
আলোর সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসর আলবদর-রাজাকার-জামায়াত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে সবচেয়ে বড় গণহত্যা সংঘটিত করে। হত্যা করে ৩০ লাখ বাঙালি নারীপুরুষ, সম্ভ্রমহানী করে কয়েক লক্ষ বাঙালি নারীর। একাত্তরের ২৫ মার্চ ঢাকায় প্রথম প্রহরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক থেকে পুলিশ, বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর) সাধারণ নারী-পুরুষসহ হত্যা করে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। পাকিস্তানিদের এই সব কলংকিত ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।’
বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের দূর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের গৌরবান্বিত মিমাংসিত বিষয়টি বারবার বাংলাদেশে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরে ও আমরা ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে পারিনি।’
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘একাত্তরের রাজাকার, আল বদর, আল সামস ও তাদের পরবর্তী প্রজন্ম বারবার মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও আমাদের ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা করে চলছে। বাংলাদেশ যে ভিত্তির উপর দাড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই ভিত্তিকে ভেঙেচুড়ে তাদের মত একটা বিকৃত ইতিহাস বিনির্মাণের চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত।’
তারা বলেন, ‘ইতিহাসের নির্মম সত্য হচ্ছে ইতিহাস তার আপন মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই সত্যকে বহন করা। ৭১ এর ২৫ আগস্ট শুধু গণহত্যা নয়, আমাদের প্রতিরোধ যুদ্ধের ও গর্বিত ঘটনা। ২৫ এর কালো রাতে বাঙালিরা নিজেদের অবস্থান থেকেই পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধের ও সূচনা করেছিল।’
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সভপতি সৈয়দ এনাম ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক জুয়েল রাজ'র পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, ফয়জুর রহমান খান, দেওয়ান গৌছ সুলতান, যুক্তরাজ্যে বাঙালি কমিউনিটির আন্দোলন সংগ্রামের সংগঠক ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য কমিটির উপদেষ্টা হরমুজ আলী, মানিবাধিকার কর্মী আহাদ চৌধুরী।
সমাপনী বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি জামাল আহমদ খান।
সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ন-সম্পাদক শাহ মুস্তাফিজুর রহমান বেলাল, হাসনিন বেগম, ড: আনিসুর রহমান আনিস, কবি ছড়াকার হেলাল সাঈফ, শাহব উদ্দিন বাচ্চু, এডভোকেট আল আমিন, নাট্যকর্মী শাকিল আহমদ সোহাগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
