শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ইস্টার সানডে পালিত, বিশ্বশান্তির প্রার্থনা
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩১
ছবি: সাজু মারছিয়াং
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে। যিশু খ্রিষ্টের বিজয়ের এই পুণ্য দিনে শ্রীমঙ্গল সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীতে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনা সভার।
এর আগে খ্রিষ্টীয় আন্ত:মন্ডলীর আয়োজনে ভোরের প্রাত:কালীন সূর্যোদয় প্রার্থনা দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জি, চা'বাগান,গারো পল্লীর মণ্ডলী থেকে আগত ৫ শতাধিক খ্রিষ্টভক্তের অংশগ্রহণে ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
রোববার (৫ এপ্রিল) ভোর সকাল সাড়ে ৫ টা সূর্যদয়ের সাথে সাথেই শুরু হয় ইস্টার সানডের আনুষ্ঠানিকতা। ‘শ্রীমঙ্গল খ্রিস্টীয় আন্তঃমণ্ডলীর’ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সার্বজনীন প্রাতঃকালীন বিশেষ উপাসনা। শান্ত, নির্মল পরিবেশে প্রাত: কালীন উপাসনায় বিভিন্ন মণ্ডলীর খ্রিষ্টভক্তরা সমবেত হয়ে যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান স্মরণ করেন। প্রার্থনায় অংশ নিতে ভোর থেকেই ধর্মপল্লী প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে।
খ্রিষ্ট ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্টের মৃত্যুর তৃতীয় দিনে তাঁর পুনরুত্থান ঘটে। এই ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ইস্টার সানডে উদযাপন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করে থাকে।
এরপর সকাল ১১ টায় শ্রীমঙ্গল শ্রমিক সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ইস্টার সানডের বিশেষ প্রার্থনা সভা। সভা পরিচালনা করেন সিলেট কাথলিক ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ। তাঁর পরিচালনায় ভক্তরা প্রার্থনায় অংশ নিয়ে বিশ্বশান্তি ও মানবজাতির মঙ্গল কামনা ও দেশ-জাতির শান্তি, কল্যাণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয়।
প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার জেমস শ্যামল গমেজ সিএসসি। অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় গান ও বাণীর মাধ্যমে পুনরুত্থিত যিশুর মহিমা তুলে ধরা হয়। বিশেষ প্রার্থনা সভায় ধর্মপল্লীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ৫ শতাধিক পুণ্যার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলিয়াছড়া পুঞ্জি থেকে আগত বিপাশা খংলা বলেন, ‘যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের এই দিনে আমরা প্রার্থনা করেছি- দেশ ভালো থাকুক, দেশের মানুষ সুস্থ থাকুক।’ ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে সমবেত প্রার্থনায় অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা সবার মঙ্গল কামনা করেছি।
প্রার্থনা সভায় বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ বলেন, ইস্টার সানডে সত্য ও ন্যায়ের জয়ের প্রতীক। তিনি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রার্থনা শেষে ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। ইস্টার সানডে দিনব্যাপী পুরো উৎসবটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
