ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এ পর্যন্ত ১২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলা (সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন একডজন নারী নেত্রী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশন থেকে এই মনোনয়নপত্রগুলো সংগ্রহ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসি থেকে এখন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা প্রার্থীদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ইসির যুগ্ম সচিব ও এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান জানান, অনেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ২১ এপ্রিল।
সিলেট বিভাগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা ১২ জন প্রার্থী হলেন- বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আহাদ কুমকুম, ব্যারিস্টার সামিরা আজিম (সামিরা তানজিন চৌধুরী), সৈয়দা আদিবা হোসেন, ছাবিনা খান, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপির সহধর্মিণী ছালমা আক্তার, নিহার সুলতানা তিথী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, এডভোকেট তহমীনা আকতার হাসেমী, এডভোকেট মুন্নী খানম (হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি) এবং মুনমুন তালুকদার।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। এরপর মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল দায়েরের তারিখ ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট বিভাগে এবার সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিলেট-সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার- এই দুই জোনের মধ্যে সমন্বয় চাইতে পারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা।
দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষিত নেতৃত্ব, নারী সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব, প্রবাস সংযোগ এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর থেকে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সিলেট বিভাগের চার জেলা মিলিয়ে সাধারণত দুইজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মনোনীত হয়ে আসছেন। ফলে এই একডজন প্রার্থীর মধ্য থেকে কারা চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন পান, তা নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
