ফাইল ছবি
দেশের চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলেও সিলেটে এখনো শুরু হয়নি এই বিশেষ কর্মসূচি। এদিকে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, নতুন করে আরও ৩৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি চলবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এবং আগামী ১১ মে পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় প্রথম ধাপে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় এখনো টিকাদান শুরু না হওয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সিলেটে সংক্রমণ পরিস্থিতি অন্যান্য জেলার তুলনায় উদ্বেগজনক নয়, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার নিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে ২২ জন, সুনামগঞ্জে ৫ জন, মৌলভীবাজারে ৪ জন, জগন্নাথপুরে ৩ জন এবং ফেঞ্চুগঞ্জে ২ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১৪টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১১০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০ জন ভর্তি আছে শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ল্যাব সুবিধা সীমিত থাকায় জটিল রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পাশাপাশি আগামী মাসের শুরুর দিকে সিলেটেও টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
