আজ মহান মে দিবস। মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, সংহতি ও আত্মত্যাগের স্মৃতিবাহী এই দিনটি বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ১৮৮৬ সালে Haymarket affair-এ দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর। পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে Second International সম্মেলনে প্রতিবছর দিনটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষ দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে। বাংলাদেশেও শ্রমিক সংগঠনগুলো যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করছে এবং এ বছরও একইভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পৃথক বাণী দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন এবং তারেক রহমান। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন এবং শিকাগোর শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আজও প্রেরণা জোগায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংস্কার, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে পেনশন ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিতকরণসহ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে দেশে-বিদেশে কর্মরত সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল শক্তি। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি ও অবকাঠামো গড়ে ওঠে। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
