https://www.emjanews.com/

15473

economics

প্রকাশিত

০৬ মে ২০২৬ ১৯:০৭

আপডেট

০৬ মে ২০২৬ ১৯:০৮

অর্থনীতি

সার্কুলার অর্থনীতিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ ১৯:০৭

ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশগত আলোচনার বিষয় নয়; বরং এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশে SWITCH2CE পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠেছে। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী, যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।

তিনি জানান, SWITCH to Circular Economy কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়; এটি বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য। এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত এসব কার্যক্রম বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং ভ্যালু চেইন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত অত্যন্ত সম্পদনির্ভর হওয়ায় পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের ভিত্তিতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তর পরিবেশগত চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উত্তরণের পর বাংলাদেশকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা ও এলডিসিভিত্তিক অনেক বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার হারাতে হবে। তাই এখন থেকেই অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক কস্ট টু জিডিপি রেশিও প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। এ ব্যয় কমাতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে একটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব ইতোমধ্যে একটি ড্যানিশ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণে সরকার নতুন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের পরই অস্থায়ী অনুমোদন পাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্থায়ী অনুমোদন ও লাইসেন্স সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে সত্যিকারের ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে পরিণত করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের আর এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হবে না।’

সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত প্রধান মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।