https://www.emjanews.com/

15483

national

প্রকাশিত

০৬ মে ২০২৬ ২১:৩৬

জাতীয়

জুনের মধ্যেই মাঠ ছেড়ে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ ২১:৩৬

ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শেষে আগামী ৬ জুন থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত কোর কমিটির প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে। পরে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকে সেনা সদস্যদের ফিরিয়ে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে থাকা সব সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফেরানো হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর মঙ্গলবারই আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে কোর কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সভায় সেনা প্রত্যাহার ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, মাদকবিরোধী অভিযান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়লে সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে থেকেই দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করে। তবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একাধিকবার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরতে চায়। বর্তমানে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সেনা সদস্যদের দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে ক্লান্তি ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানাবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, জুলাই-পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাঁদের জামিনে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশগামী সাংবাদিকদের হয়রানি না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যাঁরা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছিলেন, তাঁদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের জন্য গানম্যান দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের পোশাকে নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্ট বহাল থাকছে।