প্রথমবার ৩ লাখ কোটি ছাড়াচ্ছে এডিপি
আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ ৩.০৮ লাখ কোটি টাকা
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ ২০:১৩
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এডিপির প্রস্তাবিত আকার দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বেশি।
শনিবার (৯ মে) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বর্ধিত সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী ১৬ মে আরেকটি বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। চলতি মাসেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এডিপি অনুমোদনের পর তা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আরও ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। ফলে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
খসড়া অনুযায়ী, দেশীয় উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। মোট প্রকল্প সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১২১টি।
চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। তবে জুলাই–মার্চ সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৬ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।
এডিপির খসড়া অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষায় ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচ খাত হলো- পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, শিক্ষা খাতে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ণ খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বলছে, চলমান বাস্তবায়ন ঘাটতি ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখতে বড় আকারের এডিপি প্রস্তাব করা হয়েছে।
