https://www.emjanews.com/

15811

surplus

প্রকাশিত

২০ মে ২০২৬ ২১:৪৫

অন্যান্য

ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ আসতে পারে মহাকাশ থেকে

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ ২১:৪৫

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে সেখান থেকে পৃথিবী ও স্যাটেলাইটে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতির দাবি করেছে চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারবিহীন উপায়ে চলমান লক্ষ্যবস্তুতেও সফলভাবে বিদ্যুৎ পাঠানোর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

চীনের শায়ানসি প্রদেশের সিতিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ‘সান চেজিং’ বা ‘জুরি’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় এ প্রযুক্তি উন্নয়ন করছেন। গবেষকদের দাবি, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একই সময়ে একাধিক চলমান লক্ষ্যবস্তুতে তার ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় ১০০ মিটার দূরত্বে তারবিহীনভাবে বিদ্যুৎ পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকেরা। পরীক্ষায় বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা ছিল ২০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং এতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৮০ ওয়াট শক্তি সরবরাহ করা গেছে।

শুধু স্থির যন্ত্র নয়, ড্রোনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে থাকা একটি ড্রোন ৩০ মিটার দূর থেকে স্থিতিশীলভাবে ১৪৩ ওয়াট বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উড়ন্ত ড্রোন কিংবা মহাকাশযানকে মাঝপথেই তারবিহীনভাবে চার্জ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের পরিকল্পনায় থাকা মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে কক্ষপথে স্থাপিত বিশাল সৌরপ্যানেলের সমন্বয়ে গঠিত। এসব প্যানেল সরাসরি সূর্যের আলো সংগ্রহ করবে। পরে সেই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবী কিংবা মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো দিন-রাত ও আবহাওয়ার প্রভাব। কিন্তু মহাকাশে স্থাপিত সৌরপ্যানেল প্রায় সব সময়ই সূর্যের আলো পেতে পারে। ফলে সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আরও স্থিতিশীল ও ধারাবাহিক হতে পারে।

‘জুরি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। পরে ২০২২ সালের জুনে গবেষক দল মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভূমিভিত্তিক পরীক্ষামূলক যাচাই ব্যবস্থা সম্পন্ন করে। বর্তমানে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ধাপে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনের প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছে।

গবেষকদের ভাষ্য, ইতোমধ্যে সৌরশক্তি সংগ্রহ ও রূপান্তরের দক্ষতা বাড়ানো, মাইক্রোওয়েভ বিম আরও নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যান্টেনাকে ছোট ও হালকা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিটি সফল হলে ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। এতে শুধু পৃথিবীতেই নয়, চাঁদ কিংবা মহাকাশ স্টেশনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ হবে। পাশাপাশি দীর্ঘসময় আকাশে থাকা ড্রোন, যোগাযোগ স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের কার্যক্ষমতাও বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে ব্যবহার শুরু করতে হলে বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন হবে।