ছবি: সংগৃহীত
সমাজে ভয়াবহ অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, নিষ্ঠুর হত্যা কিংবা তুচ্ছ ঘটনায় সহিংসতার মতো ঘটনা এখন প্রায়ই সামনে আসছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব অপরাধে অনেক সময় জড়িত থাকে পরিচিত মানুষ; কখনও প্রতিবেশী, কখনও সহকর্মী, আবার কখনও পরিবারেরই কেউ।
মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিদদের মতে, বিকৃত মানসিকতার বা অপরাধপ্রবণ মানুষ সবসময় বাইরে থেকে ভয়ংকর দেখায় না। অধিকাংশ সময় তারা সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করে, সমাজে মিশে থাকে। তাই সচেতন হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু আচরণ বা লক্ষণ আগেভাগে বুঝতে পারলে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক হওয়া সম্ভব।
যেসব আচরণে সতর্ক হবেন
অযাচিত স্পর্শ:
কারও অনুমতি ছাড়া বারবার স্পর্শ করার চেষ্টা করা বা অস্বস্তিকর আচরণ করা।
হঠাৎ অতিরিক্ত রাগ:
ছোট ঘটনায় অস্বাভাবিক রাগ দেখানো বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
সহিংস আচরণ:
কথায় বা কাজে অন্যকে ভয় দেখানো, মারমুখী আচরণ করা।
বুলিং বা অপমান করা:
অন্যকে ছোট করা, অপদস্থ করা বা কষ্ট দিয়ে আনন্দ পাওয়া।
হুমকি দেওয়া:
প্রতিশোধ বা ক্ষতির ভয় দেখানো।
অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা:
সবকিছু নিয়ে সন্দেহ করা বা অস্বাভাবিক নজরদারি করা।
অশ্লীল বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ:
অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বা যৌন বিষয় নিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ।
সহানুভূতির অভাব:
অন্যের কষ্টে কোনো অনুভূতি না থাকা।
মিথ্যা বলা ও অপরাধ লুকানো:
ছোট ছোট বিষয়েও মিথ্যা বলা বা ভুল কাজ আড়াল করার চেষ্টা করা।
বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ:
স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে না পারা, অশালীন মন্তব্য করা বা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করা।
অপরিপক্ব মানসিকতা:
খুব সহজে অন্যের প্রভাবে চলে যাওয়া বা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।
যোগাযোগে সমস্যা:
আলোচনা না করে রেগে যাওয়া, ঝগড়া করা বা হঠাৎ সম্পর্ক এড়িয়ে চলা।
যেসব বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি
-অপরিচিত কারও অস্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে থাকা বা অনুসরণ করা
-ফোন, মেসেজ বা সরাসরি অশ্লীল মন্তব্য করা
-বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের আড়ালে অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হওয়া
-কর্মক্ষেত্র বা আশপাশে ভয়ভীতি বা চাপ সৃষ্টি করা
কেন এমন মানসিকতা তৈরি হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবের নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, অবহেলা, ভালোবাসার অভাব কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা অনেক সময় একজন মানুষকে নেতিবাচক ও সহিংস করে তোলে। কেউ কেউ নারীকে দুর্বল ভাবতে শেখে এবং আধিপত্য দেখাতে চায়।
তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সব রাগী বা চুপচাপ মানুষ অপরাধী নয়। আবার সব অপরাধীর মাঝেও একই আচরণ থাকে না। তাই কাউকে সন্দেহ করার আগে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজকে নিরাপদ রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সম্মান, সহানুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধ শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
