ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ট্রাভেলার ফটো প্রতিযোগিতায় মুগ্ধতা ছড়ানো ১৫ ছবি
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ ১৩:২১
ছবি: সংগৃহীত
ঘুমন্ত মেরু ভালুক, নামিব মরুভূমিতে বৃষ্টির রেখে যাওয়া বিমূর্ত নকশা, কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের ব্যস্ত ডাম্পলিং স্টল; এমন অসাধারণ সব মুহূর্ত উঠে এসেছে ২০২৬ সালের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ট্রাভেলার (ইউকে) ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার বিজয়ী ছবিগুলোতে।
প্রতিযোগিতার ১৫তম আসরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আলোকচিত্রীদের তোলা সেরা ছবিগুলো আটটি বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়। বিভাগগুলো হলো; আরবান, পিপল, ল্যান্ডস্কেপ, ওয়াইল্ডলাইফ, ফুড, পোর্টফোলিও, এরিয়াল এবং রাইজিং স্টার।
এবারের গ্র্যান্ড প্রাইজ জিতেছেন আলোকচিত্রী এডওয়ার্ড হ্যাসলার। হেলিকপ্টার থেকে তোলা তার নামিব মরুভূমির ছবিতে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টিপাতের পর বালিয়াড়ির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত পানি বালুর ওপর গাছের শাখা-প্রশাখার মতো চমৎকার নকশা তৈরি করেছে। এই অর্জনের পুরস্কার হিসেবে তিনি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ১১ দিনের একটি ফটোগ্রাফি অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ট্রাভেলার (ইউকে)-এর সিনিয়র পিকচার এডিটর এবং বিচারক বেন রো বলেন, বিজয়ী ছবিগুলো বিশ্বের নানা প্রান্তের জীবনের অনন্য গল্প তুলে ধরেছে। কখনো বিমূর্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য, কখনো রাস্তার খাবারের সংস্কৃতি, আবার কখনো ব্যস্ত নগরজীবন কিংবা নিভৃত মুহূর্তের সৌন্দর্য ধরা পড়েছে এসব ছবিতে।
ফুড বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন জায়েম জাফরি। তার ছবিতে সিউলের একটি খাবারের দোকানে গরম ধোঁয়া ওঠা ডাম্পলিং এবং ক্রেতাদের ভিড় ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, ফ্রেড ফোর্সের প্রশংসিত একটি ছবিতে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন থেকে নরওয়ের স্কজোলডেনগামী একটি ক্রুজ জাহাজের যাত্রীদের জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে।
ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগে ফরাসি আলোকচিত্রী ফেলিক্স বেলোইন ড্রোন ও টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করে বরফের ফাটলে ঘুমিয়ে থাকা একটি মেরু ভালুকের বিরল ছবি ধারণ করে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। এছাড়া লুকাস জেমস লিয়াল মার্টিনের তোলা স্কটল্যান্ডের একটি নিশাচর পেঁচার দিনের বেলার ছবি বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রতিযোগিতার নির্বাচিত ও বিজয়ী ছবিগুলো বর্তমানে লন্ডনের কিংস ক্রস স্টেশনে প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনীটি ২৮ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিশ্বের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, মানুষ ও সংস্কৃতির অসাধারণ সব মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করা এসব ছবি ভ্রমণপ্রেমী ও আলোকচিত্র অনুরাগীদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
