ছবি: সংগৃহীত
ছোটবেলা থেকেই আমি ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়তো সেই উচ্ছ্বাসের বাহ্যিক প্রকাশ কমে গেছে, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট। আমার প্রয়াত বাবাও ছিলেন ব্রাজিলের একনিষ্ঠ ভক্ত। তাঁর সঙ্গে বসে খেলা দেখা, তাঁর আবেগ অনুভব করা; হয়তো সেখান থেকেই ব্রাজিলের প্রতি আমার ভালোবাসার শুরু।
তবে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ আমাকে সত্যিকার অর্থেই ব্রাজিলের প্রেমে মুগ্ধ করে। রোমারিও, ডুঙ্গাদের অসাধারণ পারফরম্যান্স যেমন মুগ্ধ করেছিল, তেমনি পরবর্তী সময়ে Ronaldinho-এর খেলা আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁর পাস, কর্নার, ফ্রি-কিক, বল নিয়ন্ত্রণ আর সেই চিরচেনা হাসি; সবকিছুই ছিল শিল্পের মতো। আজও তাঁর মতো একজন খেলোয়াড়কে খুঁজে পাই না; এখনও তাঁর খেলা আর হাসি ভীষণভাবে মিস করি।
১৯৯৪ বিশ্বকাপকে ঘিরে আমার স্মৃতিগুলো আজও জীবন্ত। নিজের উদ্যোগে রাস্তার দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা, লম্বা বাঁশ জোড়া দিয়ে ব্রাজিলের পতাকা উড়ানো; এসব ছিল এক অন্যরকম উন্মাদনা। যখন আর্জেন্টিনা বিদায় নিয়েছিল, তখন আনন্দে বন্ধু-স্বজনদের আপ্যায়নও করেছি। তারপর এলো সেই মহারণ; ব্রাজিল বনাম ইতালির ফাইনাল। টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচ, আর শেষে টাইব্রেকারে ব্রাজিলের বিশ্বজয়। বিজয়ের সেই রাতের আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর আবেগ আজও হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
সময়ের চাকা ঘুরেছে। এখন বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করে আমার ছেলে-মেয়ে, ভাতিজা-ভাতিজিরা। আমি আগের মতো প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখাই না, কিন্তু মনে মনে এখনও প্রার্থনা করি; ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন ব্রাজিলের হাতে ওঠে।
বর্তমান প্রজন্মের তারকা Neymar-কে ভালো লাগে। তাঁর অসাধারণ প্রতিভা আছে, তবে আমি মনে করি তিনি আরও পরিণত ও কার্যকর হতে পারেন। সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বেশি অনুশীলন ও আত্মনিবেদন প্রয়োজন। কারণ তাঁর দিকে শুধু ব্রাজিল নয়, সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে আছে।
ফুটবল আসলে আনন্দ, আবেগ আর সৌন্দর্যের খেলা। তাই আমি চাই, বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হোক। তবে সমর্থক হিসেবে হৃদয়ের গভীর থেকে চাইব, বিজয়ের হাসি যেন ব্রাজিলের মুখেই ফুটে ওঠে।
ব্রাজিল দলের প্রতি রইল অফুরন্ত শুভকামনা। আর যারা আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসেন, তাঁদের প্রতিও রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সম্মান। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক মাঠে, ভালোবাসা থাকুক হৃদয়ে। ফুটবল শেষ পর্যন্ত আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখারই নাম।
অভিরুপ
(শেফ ও ইন্টোরিওর ডিজাইনার)
চাখুম / প্রাচ্য