ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দাপুটে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে নিজেদের সমর্থকদের সামনে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিনরা।
১৯৯৪ সালের পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠে বড় স্বপ্ন নিয়ে নামা স্বাগতিকরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোলের সঙ্গে একটি আত্মঘাতী গোল এবং জিওভান্নি রেইনার এক গোল মিলিয়ে সহজ জয় তুলে নেয় তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে চার গোল করার কীর্তিও গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ চার ম্যাচে মোট তিন গোল করা দলটি এবার যেন একেবারেই অন্য রূপে ধরা দিল। নতুন কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে আক্রমণভাগে সৃজনশীলতা ও গতি এনে বদলে গেছে মার্কিনদের খেলার ধরন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ৭০ হাজারের বেশি দর্শকে পূর্ণ স্টেডিয়ামে সেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের তৈরি করা আক্রমণ থেকে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বালোগুন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন তিনি।
বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছেন নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া ও লন্ডনে বেড়ে ওঠা এই স্ট্রাইকার। ১৯৩০ সালের পর বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা প্রথম মার্কিন ফুটবলারও তিনি।
প্রথমার্ধে দুর্দান্ত একটি অ্যাসিস্ট করা পুলিসিচ বিরতির পর আর মাঠে নামেননি। যদিও তার চোটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া তার ইঙ্গিত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বড় কোনো সমস্যা হয়নি।
পুলিসিচ মাঠ ছাড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গতি হারায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ পর্যন্ত জিওভান্নি রেইনার গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। বক্সের ভেতরে চমৎকার টো-ফ্লিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপে সীমিত সুযোগ পাওয়া রেইনার জন্য গোলটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে, ৭৩তম মিনিটে প্রাদো মরিসিওর গোলে ব্যবধান কমায় প্যারাগুয়ে। তবে তাতে ম্যাচের ফল বদলানোর কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
