সুরঞ্জিত সেন হ/ত্যাচেষ্টা মা/মলায় মৃ/ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ সম্পর্কে যা জানা গেল
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ ১৬:৩৩
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় একমাত্র দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে আজিজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং হুইপ জি কে গউছসহ নয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন জানান, রায়ে আজিজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অন্য আসামিরা খালাস পেয়েছেন।
আদালত সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দণ্ডিত আজিজ নাঈম সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সেয়দপুর এলাকার বাসিন্দা। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি তিনি একাধিক বোমা হামলা ও জঙ্গি সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি হিসেবে আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছেন বলে জানা যায়। এই মামলায় তিনি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া অতীতে সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনারের ওপর বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আজিজ নাঈম, যদিও পরবর্তীতে ওই মামলায় তিনি খালাস পান। একই সঙ্গে সিপিবির সমাবেশে হামলা, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর হামলা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলাসহ একাধিক ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ দাবি করেন, তার ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং নির্যাতনের মাধ্যমে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আজিজ নাঈমকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। ওই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
