ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা,রক্তি ও পাটলাই নদীপথে বিআইডব্লিউটিএ ও টোল ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে যাদুকাটা ব্যবসায়ী শ্রমিক সমিতি ও নৌ-পরিবহন মালিক সমিতি।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে যাদুকাটা নদীর তীরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের নেতারা জানান, আগামী মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল এবং পাথরসহ অন্যান্য মালামাল লোড-আনলোড কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এরপূর্বে একই দাবিতে শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকায় সুরমা নদীতে স্থানীয় স্টোন ক্রাশার মালিক ও শ্রমিকরা নৌযান চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নৌ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, পাটলাই নদীর কামালপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র নামে প্রতি ফুট পাথরে নির্ধারিত ৫০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৮০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়া রক্তি নদীর মোহনায় কোনো বৈধ ইজারা না থাকা সত্ত্বেও খালি নৌকা প্রবেশে ৩ হাজার টাকা এবং প্রতি ফুট মালামালে ২ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকায়ও নির্ধারিত হারের প্রায় তিন গুণ বেশি টোল আদায়ের অভিযোগ তোলেন তিনি।
এ সময় অন্যান্য শ্রমিক নেতারা বলেন, `অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিরুদ্ধে গত এক মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নদীপথে পাথর পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।'
অন্যান্যদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন, যাদুকাটা ব্যবসায়িক শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাকিকুল ইসলাম, নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিদ্দিক মিয়া,সদস্য শামছুল হক, মুবাশ্বির আলম এবং স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সদস্যগণ।
