https://www.emjanews.com/

17365

sylhet

প্রকাশিত

২৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:২১

আপডেট

২৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:২৪

সিলেট

সিলেটে বৃদ্ধের লা/শ উদ্ধার: অভিযোগ ভাতিজার দিকে, গ্রেফ/তার ২

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:২১

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের কাপনাকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় এক মাস পর মনোফর আলী (৭০) মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যু সরাসরি ওই হামলার কারণে হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মনোফর আলীর মালিকানাধীন রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার আপন ভাতিজা রাহিম আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তার বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে হামলা চালায়। একপর্যায়ে রাহিম আলী ধারালো দা দিয়ে মনোফর আলীর মাথায় কোপ দেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাফিয়া বেগম মুগুর দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে রাজিয়া বেগম ও নাইমা বেগম লাঠি ও বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা শেষে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আল আমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাহিম আলী, সাফিয়া বেগম, রাজিয়া বেগম, নাইমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়। আহত অবস্থায় মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৬ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, মনোফর আলীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যাকাণ্ডে রূপান্তরের বিষয়টি ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজন নারী আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। হামলার কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকলে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তর করা হবে।”