https://www.emjanews.com/

17342

economics

প্রকাশিত

২৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৫

অর্থনীতি

নতুন পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৫

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে ফের আলোচনা জোরালো হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে লাখো সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল এখন সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের সংস্থানই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আসবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

এছাড়া ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে সম্ভাব্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। এই অর্থ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায় এখনো সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে একসঙ্গে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেট ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সরকারি সূত্রগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি এবং বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটি আশঙ্কা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশলই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকে। যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হচ্ছে, ততক্ষণ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সময় ও কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।