সিসিকের ৩ নং ওয়ার্ড হবে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক: রাজীব কুমার দে
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪০
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট মহানগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান সমাজসেবক, রাজনৈতিক সংগঠক ও বিএনপি নেতা রাজীব কুমার দে। তাঁর লক্ষ্য, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে সিলেট সিটি করপোরেশনের ‘শ্রেষ্ঠ ওয়ার্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় রয়েছে- পশ্চিম কাজলশাহ, মুন্সিপাড়া, সাগরদীঘিরপাড়, সুবিদবাজার, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকা এবং বাগবাড়ির একাংশ। আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ ওয়ার্ডের উন্নয়ন পুরো সিলেট নগরের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
রাজীব কুমার দে বলেন, একটি আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তুলতে শুধু রাস্তা, ড্রেন কিংবা অবকাঠামোর উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাস, চুরি-ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট, সবুজায়ন এবং দ্রুত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, তরুণ সমাজকে জনসম্পদে পরিণত করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ওয়ার্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজীব কুমার দে আরও বলেন, ওয়ার্ডবাসীর মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান, সেবার মানোন্নয়ন এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তাঁর অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড হবে সন্ত্রাস, চুরি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ। পাশাপাশি এটি হবে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও মানবিক সেবায় সিলেট সিটি করপোরেশনের শ্রেষ্ঠ ওয়ার্ড। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওয়ার্ডবাসীর ঐক্য, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।’
রাজীব কুমার দের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। তিনি সিলেট শহর ছাত্রদলের কার্যকরী সদস্য এবং সিলেট সরকারি মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের কার্যকরী সদস্য হন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির মূল ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর পরপর দুইবার মহানগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও কারাবরণের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর দাবি, দলীয় আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তিনি সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দলের দুর্দিনে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন রাজীব কুমার দে। তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়া কাজলশাহ সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, সিলেট মহানগর কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জিন্দাবাজারের রাধাগোবিন্দ জিউর আখড়ার কোষাধ্যক্ষ এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ ভুলে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান।
এর আগে দুইবার সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পান রাজীব কুমার দে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রতিবারই তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে নিজেকে গণমানুষের একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রাজীব কুমার দে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে উন্নয়ন, সুশাসন, নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আধুনিক নাগরিক সেবার সমন্বয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করেন।
