https://www.emjanews.com/

17614

politics

প্রকাশিত

০৬ আগস্ট ২০২৬ ২২:২৯

রাজনীতি

সরকার পতনের আগে-পরে শেখ পরিবারের সদস্যরা কে কোথায়

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ২২:২৯

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তাঁর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ফোনালাপ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকালে সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়ে ইমিগ্রেশন জটিলতায় পড়েছিলেন তাপস। পরে তিনি শেখ হাসিনাকে ফোন করে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি ও সহায়তা চান।

ফোনালাপে তাপস শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যাব, যেতে চাচ্ছিলাম। আমি কি যেতে পারি?’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, যাও। যাবা না কেন?’ এরপর তাঁদের মধ্যে আরও কিছু কথোপকথন হয়।

জানা যায়, ফোনটি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে। সে সময় দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আন্দোলনের আগের দিন ঢাকায় ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটে। একই দিন বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ থেকে এক দফা দাবির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরকারের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে ওঠার পর শেখ পরিবারের অনেক সদস্য ধীরে ধীরে দেশ ছাড়েন। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগের সময় তাঁর সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছিলেন।

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ তখন ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে যান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন।

শেখ পরিবারের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য- শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ ফজলে শামস পরশ, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ তন্ময়, নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন); সরকার পতনের আগে বা পরে দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও সরকার পতনের আগেই ভারতে চলে যান বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সাবেক বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ পরে ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, শেখ পরিবারের সদস্যদের অনেকে সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত ব্যবহার করে দেশ ছাড়েন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে আনুষ্ঠানিক যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে পারিবারিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতা হারানোর পর সাধারণ নেতা-কর্মীদের তুলনায় পরিবারের সদস্যরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

সূত্র: প্রথম আলো।