শিরোনাম
প্রেমের টানে দেখা করতে এসে তিন খুন, যেভাবে রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ সিলেটে তিন খুন: তছনছ বাসা-খোয়া গেছে কাগজপত্র, ১৯ আগস্ট আদালতে ছিল শুনানি রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আটক এক রায়নগরের ট্রিপল মার্ডার: গৃহপরিচারিকা তাহমিনার প্রেমিকই খুনি! সিলেটে ৩ খু/ন: ডা/কাতি, জমি নাকি অন্য বি/রোধ সিলেটে ট্রিপল মা/র্ডার: ৩ গলাকা/টা লা/শ উদ্ধার, মিলেছে পরিচয় সিলেটে ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের লা/শ উদ্ধার সিলেটের রায়নগরে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জোড়া আমন্ত্রণ তরুণদের আন্দোলন হাইজ্যাক করছে বিজেপি-কংগ্রেস: মায়াবতী

https://www.emjanews.com/

17761

international

প্রকাশিত

১২ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫৭

আন্তর্জাতিক

ভারতে লিটারপ্রতি ২০ রুপিতে গোমূত্র কিনছে যোগী সরকার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে কৃষকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলার ১৫টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান এবং বয়স্ক বা দুধ দিতে অক্ষম গরুর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা হবে। ভবিষ্যতে এই গোমূত্র থেকে সংগৃহীত কাঁচামাল কৃষিকাজে রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রকল্পটি বর্তমানে সায়ানা তহসিলের নারসাইনা গ্রামে ড. প্রবীণের নেতৃত্বে একটি ‘কৃষক উৎপাদক সংগঠন’ (এফপিও)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সরকার পরিকল্পনা করছে, প্রকল্পটি পূর্ণ গতি পেলে কৃষকদের প্রতি লিটার গোমূত্রের বিনিময়ে ২০ রুপি পর্যন্ত দেওয়া হবে। সংগ্রহের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। মূলত পরিবেশবান্ধব কৃষি উপকরণ তৈরি এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথও প্রশস্ত করা হয়েছে। গোমূত্র সংগ্রহে সহায়তাকারী নারীদের প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশন প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ জন নারী এই প্রকল্পের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে শেয়ারহোল্ডারের মর্যাদা পেয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে একটি আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে পুরো রাজ্যে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

তবে এই উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এই প্রকল্পকে ‘কেলেঙ্কারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সরকার এমন ভিত্তিহীন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের গোশালাগুলোতে গরুগুলোই যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বিরোধীদের এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র হিরো বাজপাই পাল্টা অভিযোগে বলেন, সমাজবাদী পার্টি সরকারের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিটি পদক্ষেপেই ত্রুটি খুঁজে বের করার অপচেষ্টা চালায়।

সব বিতর্ক ছাপিয়ে সরকার আশাবাদী যে, প্রকল্পটি সফল হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।