নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ফের শঙ্কা
জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিতে গেজেট প্রকাশে জটিলতা
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৪৩
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন দাবির কারণে গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ এসেছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের অধীনরা বেতনের সমান শতভাগ ভাতা দাবি করায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের দাবিগুলো আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য বা অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আর্থিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন আরও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায় কি না, সেটিও সরকারের ভেতরে বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নির্ধারণে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগির বৈঠকে বসবে। এর আগে ১২ আগস্ট বৈঠক ডাকা হলেও কমিটির সদস্যরা উপস্থিত না থাকায় তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
কমিটির প্রথম বৈঠকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন এবং তা কীভাবে দেওয়া সম্ভব—এসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
এর আগে গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করে।
সেখানে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবও এসেছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরের বছর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি সামনে আসায় নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
