ছবি: সংগৃহীত
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের পরিকল্পনার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ, যোগ্য খেলোয়াড় ও কোচ তৈরি, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন এবং ফেডারেশনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে টেকসই পরিবর্তন আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মিলনায়তনে নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির ১৪টি ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক।
সভায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সদস্য সচিব জাহিদ পারভেজ চৌধুরীসহ নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির ১৪টি ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও কোচদের সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বলা হয়, শুধু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই ক্রীড়াঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসন, যোগ্য ক্রীড়া সংগঠক এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা। নীতিনির্ধারণী চিন্তার সঙ্গে খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক ও ফেডারেশনগুলোর বাস্তব প্রয়োজনের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিবর্তন সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনা, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
একই সঙ্গে দক্ষ ও যোগ্য কোচ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক মানের কোচিং, ক্রীড়া বিজ্ঞান, পুষ্টি, ফিটনেস ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ফেডারেশনগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। ক্রীড়াবিদদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা, বরাদ্দকৃত অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার এবং গৃহীত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করাও সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ভলিবল ফেডারেশনের নবনিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন সাদ্দাম বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ক্রীড়াবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি মাঠের বাস্তবতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক ও ফেডারেশনগুলোর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সাদ্দাম বলেন, ‘নতুন অ্যাডহক কমিটিগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যক্রমে নতুন গতি আনার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
মতবিনিময় সভায় তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনা, যোগ্য খেলোয়াড় ও কোচ তৈরি, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, ফেডারেশনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হকের নেতৃত্বে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের পরিকল্পনার সঙ্গে জাহিদ পারভেজ চৌধুরীসহ অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক ও কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের সমন্বয় ঘটানো গেলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। যোগ্যতার মূল্যায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে পারলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
