https://www.emjanews.com/

17871

national

প্রকাশিত

১৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:০৬

জাতীয়

দুবাই-এর প্রতিনিধিদের সাথে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর মতবিনিময়

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:০৬

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিসা বাতিল হওয়া সংক্রান্ত ইস্যুটি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ভিসা বাতিল হওয়া প্রবাসীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং বাতিলকৃত প্রবাসীদের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এখনও ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কারণ অনুসন্ধান চলছে এবং এ বিষয়ে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাই-এর প্রতিনিধি দলের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি সিআইপি, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মন্ত্রণালয়ে উষ্ণ অভিবাদন জানান। তিনি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সিআইপি প্রবাসীদের অপরিসীম ভূমিকার কথা অত্যন্ত প্রশংসার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এছাড়া মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই পরবর্তী সময় থেকে ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট ও এমপ্লয়মেন্ট ভিসা এবং এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে ভিসা ট্রান্সফারের ওপর আরোপিত কড়াকড়ি ও স্থবিরতা সম্পর্কে সরকার পূর্ণ অবগত রয়েছে। যৌথ কূটনীতি ও সর্বোচ্চ সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই ভিসা সংকট দ্রুত নিরসনে মন্ত্রণালয় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী দুবাই সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সিআইপি ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভিসা জটিলতা নিরসনে সম্পূরক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ সুবিধাসমূহ তুলে ধরে মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা হাই-টেক পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, প্লট বা অবকাঠামো বরাদ্দে বিশেষ কোটা এবং কর ছাড় সুবিধা প্রদান করা হবে। বিডা, কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অন্যান্য সরকারি অফিসে ফাইলিং ও প্রশাসনিক জটিলতা মুক্ত করতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে 'ডিজিটাল ও দ্রুত সেবা' নিশ্চিত করা হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় আইন-কানুন, প্রথা ও বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সিআইপিদের মাধ্যমে সাধারণ প্রবাসীদের সচেতন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। সংবেদনশীল বিষয়ে বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে ছবি/ভিডিও ধারণ করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা বা এআই-এর অপব্যবহার করে নেতিবাচক প্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাছাড়া কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক আচরণে লিপ্ত না হতে কনস্যুলেট ও মিশনের সঙ্গে যৌথভাবে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধ করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ প্রেরণে সিআইপি ব্যবসায়ীদের অধীনস্থ কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অতি দ্রুত সর্বজনীন ও স্বচ্ছ 'প্রবাসী কার্ড' চালু করা হবে, যার মাধ্যমে দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী ও অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসা এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ প্রেরণ নিশ্চিত হবে। এছাড়া প্রবাসীদের যাতায়াতে টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং যুক্তিসঙ্গত বিমান ভাড়া নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দল ভিসা চালুর জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ, বিদেশগমনেচ্ছু কর্মীদের মান উন্নয়ন, প্রবাসী কার্ড নিশ্চিতকরণ, সরকারি খরচে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনা, দেশের হাসপাতালে প্রবাসীদের সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা, প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, সাশ্রয়ী মূল্যে বিমান টিকিট, ড্রাই ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং বিনিয়োগের মুনাফা বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ প্রদানসহ সার্বিক বিষয়ে তাদের দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।