ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ছয় মাসে জনগণ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখতে পায়নি। জনদুর্ভোগ লাঘবের চেয়ে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র দলীয়করণ এবং রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন পদে দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনেই সরকার বেশি ব্যস্ত সময় পার করেছে। ফলে দিন দিন জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। একের পর এক খুন-খারাবি, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয় সিন্ডিকেটের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগের মাধ্যমে লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তিনি বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর জামায়াতের দায়িত্বশীল সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।
সভায় মহানগর জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন থানার দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর জনগণ একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয়করণ কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে না। জনগণের দুর্ভোগ কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। কিন্তু এসব মৌলিক বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় জনমনে হতাশা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে থাকে, তাহলে এর রাজনৈতিক পরিণতি ভালো হবে না। বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।
