শিরোনাম
কথিত তৌহিদী জনতার বাধা উপেক্ষা করে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত নেত্রকোণায় মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণ: শিক্ষকসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ৩০ জন: সিলেটের চার জেলায় কে কোথায়? নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩৩২, বাড়ছে নিখোঁজের তালিকাও নেপালের বন্যার পানি গঙ্গা হয়ে আসছে বাংলাদেশে টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট থেকে লাফ দিয়ে পর্যটকের মৃত্যু সিলেটে উদ্ধার হওয়া লা/শটি কার? জানা যায়নি ২৪ ঘণ্টাতেও সিলেটে এসএমপির অভিযানে ২৯ জন গ্রে/ফতার, বিপুল মালামাল জব্দ সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃ/ত্যু বরফধস ও রাবিশে তৈরি কৃত্রিম লেক বিস্ফোরণ, নেপালে শতাধিক প্রাণহানি

https://www.emjanews.com/

18147

entertainment

প্রকাশিত

২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৪

আপডেট

২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২৪

বিনোদন

মৃত্যুর দুই ঘণ্টা আগে ‘রাস্তায় হ.ত্যা’র গান, এরপরই ১২ গুলিতে শেষ অঙ্কিতের জী.বন

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৪

ছবি: সংগৃহীত

ন্ধ্যার আলো তখনও পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। জিম থেকে বেরিয়ে হাতে কিট ব্যাগ নিয়ে নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ৩৫ বছরের অঙ্কিত বালিয়ান। হয়তো বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল, হয়তো পরদিনের কোনো গানের পরিকল্পনা মাথায় ঘুরছিল। কিন্তু কয়েক পা এগোতেই তাঁর পেছনে এসে দাঁড়ায় চার অস্ত্রধারী।

তারপরই শব্দ; একটির পর একটি গুলি।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। যে রাস্তায় কিছুক্ষণ আগেও ছিল মানুষের স্বাভাবিক চলাচল, সেখানেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। কেউ দৌড়ে দোকানের ভেতর ঢুকে পড়েন, কেউ আবার ভয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। আর রাস্তায় পড়ে থাকেন হরিয়ানভি সংগীতের পরিচিত মুখ অঙ্কিত বালিয়ান।

ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলিতে বুধবার সন্ধ্যায় ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে হামলার পুরো দৃশ্য। ফুটেজে দেখা যায়, চারজন অস্ত্রধারী অঙ্কিতকে অনুসরণ করছে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে শুরু হয় গুলিবর্ষণ। প্রায় ২৫ সেকেন্ড ধরে চলা হামলায় ছোড়া হয় মোট ১২টি গুলি।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের কাছে ছিল .৩০ ও .৩২ ক্যালিবারের পিস্তল। আতঙ্ক ছড়াতে কয়েকটি গুলি শূন্যেও ছোড়া হয় বলে ধারণা পুলিশের।

জিম থেকে বের হওয়ার সময় অঙ্কিতের হাতে ছিল কিট ব্যাগ। গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু গাড়িতে ওঠার আগেই তাঁকে ঘিরে ফেলে হামলাকারীরা।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর তাঁর শরীরে কতটি গুলি লেগেছিল এবং কী ধরনের আঘাত হয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হবে।

ঘটনাস্থল হরিয়ানা সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা হরিয়ানা থেকে শামলিতে এসে থাকতে পারে।

এখন সেই সড়ক, সেই জিম আর সেই গাড়ির জায়গাটি হয়ে উঠেছে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিসিটিভির প্রতিটি ফ্রেমে খোঁজা হচ্ছে হত্যার উত্তর; কারা এসেছিল, কেন এসেছিল, আর গুলি চালানোর পর কোন পথে মিলিয়ে গেল তারা।

অঙ্কিত বালিয়ান শুধু একজন গায়ক ছিলেন না; ইউটিউবেও তাঁর ছিল বড় অনুসারী। শামলির বান্টি খেদা গ্রামের এই শিল্পীর ইউটিউব চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি।

তবে তাঁর গানের জগতটিও ছিল ভিন্ন এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বন্দুক, সংঘর্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দাপট আর শত্রুতার ছবি প্রায়ই উঠে আসত তাঁর গানের ভিডিওতে। বিলাসবহুল এসইউভির পাশে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা চরিত্র কিংবা প্রতিশোধের ভাষা; এসব ছিল তাঁর গানের পরিচিত অনুষঙ্গ।

তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর একটি ‘ভারি কোর্ট ম্যায় গোলি মারেঙ্গে মেরি জান’। নামটির অর্থ; ‘আদালতের মধ্যেই তোমাকে গুলি করব, প্রিয়’।

কিন্তু অঙ্কিতের মৃত্যুর পর তাঁর গানগুলোর এসব শব্দ যেন নতুন এক অস্বস্তিকর অর্থ নিয়ে ফিরে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি।

মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অঙ্কিত। গাড়ির ভেতর বসে তিনি গাইছিলেন হরিয়ানভি একটি গান। গানের একটি লাইন; ‘মার্ডার মার দে সড়ক কে ওপর’; অর্থাৎ, ‘রাস্তায় হত্যা করো’।

তারপর সত্যিই রাস্তায় রক্তাক্ত হয়ে পড়ে রইল তাঁর জীবন।

এটি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে কোনো অজানা গল্প আছে; তার উত্তর এখনো নেই। তবে মৃত্যুর পর অঙ্কিতের শেষ পোস্টটি যেন তাঁর জীবনের শেষ দৃশ্যের সঙ্গে ভয়ংকরভাবে মিলে গেছে।

অঙ্কিত হত্যার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত গোগি গ্যাং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্যাংটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অঙ্কিত তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি গ্যাং-সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনা নিয়ে তিনি গান তৈরি করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

গ্যাং-সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত ভোলু শাহপুরিয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও দেওয়া হয়েছে হুমকি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এটা কেবল শুরু, সবার পালা আসবে।’

উত্তর প্রদেশ পুলিশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টে। ভবিষ্যতে আরও হামলার ইঙ্গিতও রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অঙ্কিতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে চার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক দল কাজ করছে।

সিসিটিভি ফুটেজ এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কে প্রথম অঙ্কিতকে অনুসরণ করেছিল, কার হাতে ছিল বন্দুক, কত দূর থেকে হামলাকারীরা এসেছিল এবং গুলি চালানোর পর কোন পথে পালিয়েছিল; সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একজন গায়ক, যাঁর কণ্ঠে বন্দুকের শব্দ ছিল কেবল গানের অংশ; শেষ পর্যন্ত সেই বন্দুকের শব্দেই থেমে গেল তাঁর নিজের কণ্ঠ।

আর পড়ে রইল কয়েকটি প্রশ্ন-

কে লিখেছিল এই শেষ গান?
কেনই বা থামল জীবন, জিমের দরজা পেরোনোর কয়েক মুহূর্ত পরেই?

উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আর অঙ্কিতের শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি থেকে যাচ্ছে এক ভয়ংকর কাকতালীয় স্মৃতি হয়ে।