https://www.emjanews.com/

18709

national

প্রকাশিত

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৬

আপডেট

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০৫

জাতীয়

দুই নারীর চুলোচুলি: স্বামী তুমি কার?

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৬

ছবি: সংগৃহীত

দুই নারীর এক স্বামী! এ নিয়েই বিবাদ শুরু।

এরপর আর কী, কথার লড়াই থেকে শুরু হয়ে গেল চুল ধরে টানাটানি। কে কার স্ত্রী, কে কাকে তালাক দিয়েছেন, কে কাকে বিয়ে করেছেন- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যাওয়ার আগেই দুই পক্ষ যেন নিজেরাই ‘মাঠে নেমে’ গেলেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রথমে দুই নারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর সেই কথার সঙ্গে যোগ হয় হাত-পা ও চুল। দুজনই একে অপরের চুল ধরে টানাটানি করতে থাকেন। আর আশপাশের মানুষ? কেউ থামাতে এগিয়ে গেলেন, কেউ আবার ঘটনাটি দেখতেই ভিড় করলেন।

জনসমক্ষে দুই নারীর হাতাহাতির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে ইউপি সদস্য লিটন সরকারকে স্বামী দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত।

লিটনের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর দাবি, প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর লিটন তাকে বিয়ে করেছেন। তার কাছে এ-সংক্রান্ত তালাকনামাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রথম স্ত্রীর দাবি, তাকে তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।

এ নিয়ে সোমবার সকালে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই নারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চুল ধরে টানাটানি, ধস্তাধস্তি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক ও মিঠু মিয়া জানান, দুই নারী একে অপরকে উদ্দেশ করে চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। পরে তারা চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে তাদের শান্ত করেন।

খবর পেয়ে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন মেম্বার ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীকে নিজের জিম্মায় নেন। পরে তাদের চায়না বাজারে নিয়ে আসা হয়। সেখানেও বিষয়টি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

রিপন মেম্বার বলেন, ‘তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুজন নারী মারামারি করছেন শুনে সেখানে যাই। পরে দুজনকেই চায়না বাজারে নিয়ে আসি। তারা দুজনই লিটনের বউ বলে দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের আমার জিম্মায় রাখা হয়।’

স্থানীয় মিঠু মিয়া বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে দুইটা মেয়ে চুল ধরে মারামারি শুরু করেন। আমরা তাদের ঝগড়া থামিয়ে নিয়ে আসি।’

লিটনের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, লিটনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। পরে তিনি লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে সেখানে আসেন। তার কাছে তালাকনামা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘লিটন আমাকে বলেছিল, সে তার বউকে ডিভোর্স দিয়েছে। সেটি যাচাই করার জন্য এসেছি।’

ওই নারী আরও দাবি করেন, তার আগে একটি সংসার ছিল এবং সেটি ত্যাগ করে লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নি করছেন বলেও পরিচয় দেন তিনি।

অন্যদিকে লিটন সরকার বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।